১৪ জুন, ২০২৬ লাকসাম, কুমিল্লা

দৈনিক লাকসামের কণ্ঠস্বর

সত্যের সন্ধানে সর্বদা আপসহীন

ব্রেকিং নিউজ
*** লাকসাম বাইপাস সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে *** লাকসামে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত *** দেশের শীর্ষ তালিকায় উঠে এলো লাকসামের এক কৃতি সন্তান ***

​সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: লাকসামে ‘কেনা দামে’ ১১শ কেজি গরুর মাংস বিক্রি

 

​কুমিল্লা: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাংসের বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কুমিল্লার লাকসামে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘যে দামে কেনা, সে দামে বেচা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কোনো প্রকার লাভ ছাড়াই ১১শ কেজি দেশি গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছে।

​শনিবার (২৯ মার্চ) লাকসাম সুরক্ষা সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট মানবিক সংগঠক মো. আসাদুজ্জামান ভুট্টুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই প্রশংসনীয় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।

​যেভাবে নির্ধারণ করা হলো মূল্য

​সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে এই কর্মসূচির জন্য ১০টি দেশি গরু কেনা হয়। গরু কেনা থেকে শুরু করে জবাই ও বিক্রির প্রক্রিয়া পর্যন্ত মোট যত টাকা খরচ হয়েছে, মাংসের মোট পরিমাণ দিয়ে সেই খরচকে ভাগ করে প্রতি কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে হিসাব করার পর প্রতি কেজি মাংসের বাজার মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ৭০০ টাকা।

​৫ কেজির কোটা ও সুশৃঙ্খল বিক্রি

​আয়োজকরা জানান, যাতে সাধারণ মানুষ সমানভাবে এই সুযোগ পান এবং কোনো প্রকার কালোবাজারি না হতে পারে, সেজন্য প্রতিটি পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কেজি মাংসের কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ‘টিম সুরক্ষা’র সদস্য আবু বকর জাহিদসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সার্বিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সর্বমোট ১১শ কেজি মাংস সাধারণ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে ও নিশ্চিত ভালো মানের মাংস পেয়ে ক্রেতাদের চোখে-মুখে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে।

​সিন্ডিকেট রুখতেই এই উদ্যোগ: আসাদুজ্জামান ভুট্টু

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুরক্ষা সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবিক সংগঠক মো. আসাদুজ্জামান ভুট্টু বলেন, "পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা লক্ষ্য করেছি, লাকসামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী যখনই কোনো সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে, তখনই আমরা সেই সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করতে এবং বাজার স্থিতিশীল করতে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। আগামীতেও আমাদের এই জনকল্যাণমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"

​ব্যবসায়িক মুনাফার ঊর্ধ্বে উঠে পবিত্র রমজান ও ঈদের এই সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন লাকসামের সর্বস্তরের বাসিন্দা ও সচেতন মহল।